২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে স্পেসএক্স —ইলোন মাস্ক

স্পেসএক্স ২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোন মাস্ক।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। খবর রয়টার্স।

মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দুদিন পর মাস্ক এ মন্তব্য করেন। গত শুক্রবার কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়ে যায়। ফলে স্পেসএক্স এখন যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ বৃহত্তম তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

এক্সে দেয়া পোস্টে মাস্ক জানান, ২০৩১ সালে স্পেসএক্সের আয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি না হলে তিনি বিস্মিত হবেন। তবে বর্তমানে কোম্পানিটির আয় একই বাজারমূল্যের অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম। ব্রডকম ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব স্পেসএক্সের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেসএক্সের আয় দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ডলার। আগের বছর এ আয় ছিল ১ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। তবে আয় বাড়লেও লোকসানের মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। ২০২৫ সালে স্পেসএক্সের নিট লোকসান হয় প্রায় ৪৯৪ কোটি ডলার।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে স্পেসএক্সের আয় ৪৭ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে। অন্যদিকে মরগ্যান স্ট্যানলির ধারণা, ওই সময় কোম্পানিটির আয় প্রায় ৩৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে। দুটি পূর্বাভাসই মাস্কের ঘোষিত লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও দেখা গেছে বেশ। গত শুক্রবার নাসডাকে লেনদেনের প্রথম দিন স্পেসএক্সের শেয়ারদর ১৯ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

এ সাফল্যের মাধ্যমে ইলোন মাস্ক কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার বা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভান্ডা রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনের প্রথম দিনই খুচরা বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১১ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের স্পেসএক্স শেয়ার কিনেছেন। এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আইপিও-পরবর্তী বিনিয়োগ আগ্রহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে স্পেসএক্সের শেয়ারে মূল্যের ওঠানামা বেশি হতে পারে। কোম্পানিটির বাজারমূল্য অনেক বেশি এবং বাজারে শেয়ারের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ফলে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও